আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আলজেরিয়ার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দর্শকদের নজর কাড়েন গোলরক্ষক লুকা জিদান। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে গোলপোস্ট সামলানোর পাশাপাশি তার মুখে থাকা কালো ফেস মাস্কও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনেকেই এটিকে স্টাইলের অংশ মনে করলেও বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে গুরুতর চোটের ইতিহাস।
ফুটবল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন। বুধবার (১৭ জুন) আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি আলজেরিয়ার প্রথম একাদশে ছিলেন। তবে ম্যাচের ফলাফল আলজেরিয়ার পক্ষে না গেলেও লুকার মুখে থাকা বিশেষ সুরক্ষা মাস্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম *দ্য সান*-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে স্পেনের ক্লাব গ্রানাডার হয়ে খেলতে গিয়ে গুরুতর মুখের চোটে পড়েন ২৮ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। ম্যাচ চলাকালে এক সংঘর্ষে তার চোয়াল ও থুতনিতে আঘাত লাগে। পরে পরীক্ষায় মুখের হাড়ে ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে।
সাধারণত এমন ধরনের আঘাতের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বিশ্রাম এবং পূর্ণাঙ্গ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। তবে সামনে বিশ্বকাপ থাকায় লুকা জিদান দ্রুত মাঠে ফেরার পথ খুঁজতে থাকেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয় কার্বন ফাইবারের একটি সুরক্ষামূলক ফেস মাস্ক।
এই মাস্কের মূল কাজ হলো আঘাতপ্রাপ্ত অংশের ওপর সরাসরি চাপ কমিয়ে দেওয়া এবং নতুন করে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করা। ফলে সম্পূর্ণ সুস্থ না হলেও খেলোয়াড় নিরাপদে মাঠে নামতে পারেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন লুকা। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং কয়েক সপ্তাহ আগে আবার অনুশীলনে ফিরেছেন। তার ভাষায়, ব্যথা এখন আর নেই এবং মাঠে ফিরে আসতে পেরে তিনি আনন্দিত।
লুকা জিদান বর্তমানে স্প্যানিশ ক্লাব গ্রানাডার হয়ে খেলছেন। ফ্রান্সে জন্ম হলেও পারিবারিক শিকড় আলজেরিয়ায় হওয়ায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি আলজেরিয়ার জার্সি বেছে নেন। ফ্রান্সের সাবেক বিশ্বকাপজয়ী তারকা জিনেদিন জিদানের ছেলে হিসেবে পরিচিত হলেও নিজের পরিচয় গড়তে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই করছেন এই গোলরক্ষক।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে চোট কাটিয়ে মাঠে নামা এবং দলের দায়িত্ব পালন করা লুকার মানসিক দৃঢ়তারও প্রমাণ বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। যদিও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয় পাওয়া সম্ভব হয়নি, তবুও মাস্ক পরে তার খেলার দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।