ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া—এমন অভিযোগ উঠেছে। ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে এই দাবি সামনে এসেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য নাশকতার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধে রয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও ইউরোপের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নাশকতার আশঙ্কা
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হতে পারে। এসব কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য লক্ষ্য ও ধরন নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তবে রাশিয়া এসব অভিযোগ করেছে কি না বা অভিযোগের বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে কী বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ সীমিত।
ইউরোপের দেশগুলো সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা এবং অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করেছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইউরোপের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক আরও তীব্র বিরোধপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইউক্রেনকে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। অন্যদিকে রাশিয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে।
এই সংঘাতের প্রভাব ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পড়েছে। সাইবার হামলা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং নাশকতার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলো তদন্ত ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার পর ইউরোপে সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না কিংবা অভিযোগের পেছনে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও সরকারি বক্তব্যের ভিত্তিতেই স্পষ্ট হবে।