Loading...

  • 17 Oct, 2026
সর্বশেষ

ফেসবুক পোস্টের জেরে সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড, শ্রীলঙ্কান তরুণকে ক্ষমার আবেদন পরিবারের

ফেসবুক পোস্টের জেরে সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড, শ্রীলঙ্কান তরুণকে ক্ষমার আবেদন পরিবারের

সৌদি আরবে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া শ্রীলঙ্কার তরুণ সিভারাসা অনোজানকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার। ২৪ বছর বয়সী অনোজান সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি মন্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং প্রথমে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হয়েছিল। পরে সৌদি প্রসিকিউশনের আপিলের পর মামলাটি শরিয়াহ আইনের অধীনে নেওয়া হলে আপিল আদালত তার সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে।

অনোজানের পরিবার জানিয়েছে, ছেলের জীবন রক্ষায় তারা সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে মানবিক বিবেচনায় ক্ষমার আবেদন জানাচ্ছে। তার মা রাসামানিক্কাম যোগলক্ষ্মী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছেলের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনোজান মন্তব্যটি করার পর তা মুছে ফেলেছিলেন এবং পরে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত শ্রীলঙ্কায় একটি হিন্দু তীর্থযাত্রার সময় একটি কুকুরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক থেকে। ওই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের একপর্যায়ে অনোজান ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি মন্তব্যটি সরিয়ে নিয়ে একটি ভিডিওর মাধ্যমে ক্ষমা চান। তবে মন্তব্যটির স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে সৌদি আরবে তার নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

সৌদি আরবের আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট প্রথমে অনোজানকে সাইবার অপরাধ আইনের আওতায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। পরে সৌদি প্রসিকিউশন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে তাকে শরিয়াহ আইনের অধীনে বিচার করার আবেদন জানায়। ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল আদালত প্রসিকিউশনের আবেদন গ্রহণ করে এবং অনোজানের সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ জানিয়েছেন, সরকার মামলাটি নিয়ে আইনি ও কূটনৈতিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

অনোজানের মৃত্যুদণ্ডের খবর প্রকাশের পর শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার জীবন রক্ষায় দেশটির সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ করছে। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকও অনোজানের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে ক্ষমা করানোর জন্য আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সৌদি বাদশাহর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমার আবেদন জানানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনোজানের মামলায় সরকার সৌদি আরবের আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি একটি প্রতিনিধিদল সৌদি আরবে গিয়ে স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার মুসলিম ও তামিল সম্প্রদায়ের কয়েকজন সংসদ সদস্যও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে অনোজানের জন্য রাজকীয় ক্ষমার আবেদন জানিয়েছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর পাঠানো এক চিঠিতে তারা সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে মানবিক বিবেচনায় তরুণটির জীবন রক্ষার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অনোজান তার মন্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চেয়েছিলেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে অনোজানের পরিবারের প্রধান লক্ষ্য তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ঠেকিয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। তার পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ছেলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি। শ্রীলঙ্কা সরকার আইনি, কূটনৈতিক ও মানবিক—তিন দিক থেকেই বিষয়টি মোকাবিলার চেষ্টা করছে।