Loading...

  • 24 Jun, 2026

এমবাপ্পেকে থামাতে তিন গোলরক্ষক চেয়েছিলেন ইরাক কোচ! ম্যাচের আগে রসিকতায় জমে উঠল বিশ্বকাপ

এমবাপ্পেকে থামাতে তিন গোলরক্ষক চেয়েছিলেন ইরাক কোচ! ম্যাচের আগে রসিকতায় জমে উঠল বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন ফ্রান্স মাঠে নামে, তখন প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় চিন্তার নাম হয়ে ওঠেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। চলমান বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে ফরাসি অধিনায়ক বুঝিয়ে দিয়েছেন, শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ফ্রান্স কতটা প্রস্তুত।

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাকের মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এমবাপ্পে। ফ্রান্সের আক্রমণভাগের শক্তি এবং বিশেষ করে এমবাপ্পেকে কীভাবে আটকানো যায়— এমন প্রশ্নের মুখে ইরাকের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড ভিন্নধর্মী উত্তর দিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে হাসির রোল তুলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রসিকতার সুরে আর্নল্ড বলেন, তিনি নাকি আয়োজকদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন একসঙ্গে তিনজন গোলরক্ষক মাঠে নামানো যাবে কি না। তবে নিয়ম অনুযায়ী সেটি সম্ভব নয় বলে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।

যদিও বক্তব্যটি ছিল হাস্যরসাত্মক, তবে এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের প্রতি প্রতিপক্ষের সম্মান ও সতর্কতা। বিশেষ করে এমবাপ্পের গতি, ড্রিবলিং, ফিনিশিং এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার ক্ষমতা যে কোনো দলের রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছিলেন এমবাপ্পে। যদিও সেই ম্যাচে ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি, তবে তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিল। বর্তমান বিশ্বকাপেও তিনি একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। প্রথম ম্যাচে দুটি গোল করে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের জানান দিয়েছেন এবং গোল্ডেন বুটের দৌড়েও নিজেকে এগিয়ে রেখেছেন।

অন্যদিকে ইরাকও এই ম্যাচকে নিজেদের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। তুলনামূলকভাবে শক্তির বিচারে পিছিয়ে থাকলেও দলটি আত্মবিশ্বাস হারাতে রাজি নয়। কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড বলেছেন, ফ্রান্স কীভাবে খেলবে, সেটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে নিজেদের পরিকল্পনা এবং পারফরম্যান্সের ওপর পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছেন তারা।

তার মতে, বিশ্বকাপ এমন একটি মঞ্চ যেখানে ছোট দলগুলোও বড় চমক দেখাতে পারে। তাই মাঠে নামার আগে তার খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসী থাকতে বলেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তার দল নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও লড়াই গড়ে তোলা সম্ভব।

ফ্রান্সের জন্য এই ম্যাচের গুরুত্বও কম নয়। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করতে পারলে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে তারা। ফলে কোচ এবং খেলোয়াড়রা কোনো ধরনের আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চাইছেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হবে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স। তিনি যদি নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেন, তাহলে ইরাকের রক্ষণভাগকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। একই সঙ্গে ইরাকের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্যও এটি হবে নিজেদের সামর্থ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ।

সব মিলিয়ে ফ্রান্স ও ইরাকের মধ্যকার ম্যাচটি শুধু পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের আরেকটি সম্ভাব্য শো দেখার অপেক্ষাও। আর ম্যাচের আগেই ইরাক কোচের রসিক মন্তব্য সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

**ট্যাগ:**
কিলিয়ান এমবাপ্পে, ফ্রান্স, ইরাক, বিশ্বকাপ, ফিফা বিশ্বকাপ, গ্রাহাম আর্নল্ড, ফ্রান্স বনাম ইরাক, ফুটবল বিশ্বকাপ, এমবাপ্পে গোল, ফরাসি ফুটবল দল, বিশ্বকাপ ২০২৬, ক্রীড়া সংবাদ, ফুটবল, গোল্ডেন বুট, বিশ্বকাপ ম্যাচ

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy