Loading...

  • 24 Jun, 2026

ডলারের শক্তিতে স্বর্ণবাজারে বড় ধস, একদিনেই দেড় শতাংশের বেশি পতন

ডলারের শক্তিতে স্বর্ণবাজারে বড় ধস, একদিনেই দেড় শতাংশের বেশি পতন

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve চলতি বছরে সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন জোরালো পূর্বাভাসের জেরে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। শক্তিশালী ডলারের প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন নতুন করে বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১১৯.১৩ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আগস্ট মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দরও ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪,১৩৭.১০ ডলার প্রতি আউন্সে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের শক্তিশালী অবস্থানই বর্তমানে স্বর্ণের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে। KCM Trade-এর প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তেলের দামে সাম্প্রতিক পতন স্বর্ণবাজারে কিছুটা স্বস্তি আনলেও শক্তিশালী ডলারের কারণে সেই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

গত কয়েক দিনে মার্কিন ডলারের সূচক এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে। ফলে বৈশ্বিক চাহিদায় চাপ তৈরি হয়েছে এবং দাম কমে যাচ্ছে।

বাজার পর্যবেক্ষণকারী CME Group-এর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৮৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬১ শতাংশ। সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা সাধারণত স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এদিকে ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনেও কিছু পরিবর্তন বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও Iran-এর মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনার অগ্রগতির ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকির ধারণা কিছুটা কমেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিতও বাজারকে নতুন করে প্রভাবিত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণ সাধারণত সংকটকালীন সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে যখন ডলার শক্তিশালী হয় এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখন স্বর্ণের আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

শুধু স্বর্ণই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম একদিনে প্রায় ৪ শতাংশ কমে ৬২.৫৯ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে ১,৬৪৪.৭৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১,২৩৬.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন ব্যক্তিগত ভোগব্যয় সূচক (PCE) প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন, যা ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্যই আগামী দিনে স্বর্ণবাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে শক্তিশালী ডলার, সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মিশ্র প্রভাব বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করেছে, যা স্বল্পমেয়াদে বাজারে আরও ওঠানামার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy