বাংলাদেশে সরকারি বিভিন্ন সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি একক ডিজিটাল পরিচয় বা ডিজিটাল আইডিকে কেন্দ্রীয় মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) তৈরির কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ।
রেহান আসাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা পরিচয় বা প্রক্রিয়ার পরিবর্তে একটি একক ডিজিটাল পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি সেবার সঙ্গে নাগরিকের পরিচয়কে ডিজিটালভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ডিপিআই হলো এমন একটি প্রযুক্তিগত ভিত্তি, যার মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা সহজে, দ্রুত এবং সমন্বিতভাবে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা যায়। সরকারের পরিকল্পনায় এই অবকাঠামোর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে যুক্ত করার বিষয়টিও রয়েছে। এর ফলে সরকারি সেবা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি সেবা পেতে নাগরিকদের একাধিক দপ্তর, প্ল্যাটফর্ম ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে হয়। একক ডিজিটাল আইডিকে কেন্দ্র করে সেবা কাঠামো গড়ে উঠলে বিভিন্ন সরকারি সেবার ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই ও তথ্য ব্যবস্থাপনার প্রক্রিয়া আরও সমন্বিত করার সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের জন্য সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াও একটি অভিন্ন ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে।
রেহান আসাদ জানিয়েছেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার এআই-নির্ভর ডিপিআই গড়ে তোলার কাজ করছে। অর্থাৎ শুধু একটি ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করাই নয়, এর সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি সেবার ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সঙ্গে নাগরিকদের তথ্য ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একটি একক ডিজিটাল পরিচয় বিভিন্ন সরকারি সেবার সঙ্গে যুক্ত হলে নাগরিকের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি হবে। তাই এ ধরনের অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে তথ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও ব্যবহারের নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
ডিজিটাল আইডিকে সরকারি সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নাগরিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডিজিটাল যোগাযোগের পরিধি বাড়তে পারে। বিভিন্ন সেবা একই পরিচয়ের আওতায় যুক্ত করার মাধ্যমে সরকারি সেবাগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টার এই বক্তব্য বাংলাদেশের সরকারি সেবা ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে এনেছে। সরকারের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে একটি একক ডিজিটাল পরিচয় এবং এআই-নির্ভর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে কোন কোন সরকারি সেবা এর আওতায় আসবে, ডিজিটাল আইডির কাঠামো কী হবে এবং নাগরিকদের তথ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জানা গেলে উদ্যোগটির পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।