Loading...

  • 21 Jun, 2026

বিশ্বকাপের আবেগঘন গল্প: ভোজিনহার খেলা দেখতে ভিসা পেলেন মা, মায়ামিতে হচ্ছে পুনর্মিলন

বিশ্বকাপের আবেগঘন গল্প: ভোজিনহার খেলা দেখতে ভিসা পেলেন মা, মায়ামিতে হচ্ছে পুনর্মিলন

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু শিরোপার লড়াই কিংবা তারকাদের নৈপুণ্যের মঞ্চ নয়, এটি অসংখ্য মানবিক গল্পেরও জন্ম দেয়। এবারের আসরে এমনই এক আবেগঘন অধ্যায়ের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেওয়ার পর নিজের ব্যক্তিগত জীবনের একটি অপূর্ণতার কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি। সেই আক্ষেপই শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মা-ছেলের পুনর্মিলনের পথ খুলে দিয়েছে।

বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে কেপ ভার্দেকে খুব কম মানুষই সুযোগ দিয়েছিল। অধিকাংশ ফুটবল বিশ্লেষকের ধারণা ছিল, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে বড় ব্যবধানে হারতে পারে আফ্রিকার দেশটি। কিন্তু মাঠের চিত্র ছিল ভিন্ন। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে স্পেনের আক্রমণভাগকে হতাশ করেন ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা। তার অসাধারণ গোলকিপিংয়ে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে কেপ ভার্দে, আর ম্যাচের নায়ক বনে যান এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

তবে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের সাফল্যের চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তার ব্যক্তিগত জীবনের এক বেদনাময় গল্প। ভোজিনহা জানান, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার মা আনা কান্দিদা এভোরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে গ্যালারিতে বসে তার বিশ্বকাপের খেলা দেখতে পারেননি। জীবনের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেললেও মায়ের উপস্থিতি না থাকার কষ্ট তার কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল।

তার এই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকেরা বিষয়টি নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান। পরে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস মানবিক বিবেচনায় ভোজিনহার মাকে ভিসা প্রদানের জন্য উদ্যোগ নেন এবং বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অবশেষে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাকিম জেফরিস জানান, আনা কান্দিদা এভোরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেয়েছেন। শুধু ভিসাই নয়, তার যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২১ জুন মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচের আগে মা-ছেলের আবেগঘন পুনর্মিলন ঘটবে।

ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহযোগিতার জন্য মার্কো রুবিও, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকার এবং FIFA-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হাকিম জেফরিস। তিনি বলেন, খেলাধুলা মানুষকে একত্রিত করে এবং এই ঘটনাটি তারই একটি সুন্দর উদাহরণ।

এদিকে বিশ্বকাপে নিজেদের স্বপ্নের যাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুতি নিচ্ছে কেপ ভার্দে। গ্রুপ ‘এইচ’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আগামী ২১ জুন শক্তিশালী উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে দলটি। স্পেনের বিপক্ষে নায়কোচিত পারফরম্যান্সের পর এবার গ্যালারিতে মায়ের উপস্থিতি ভোজিনহাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিতে পারে বলে মনে করছেন সমর্থকরা।

ফুটবলের ইতিহাসে অনেক বড় বড় জয়-পরাজয়ের গল্প লেখা হয়েছে। তবে কখনও কখনও মাঠের বাইরের কিছু মুহূর্ত মানুষের হৃদয়ে আরও গভীর ছাপ ফেলে। ভোজিনহা ও তার মায়ের এই পুনর্মিলনের গল্পও তেমনই একটি অধ্যায়, যা বিশ্বকাপের আবেগঘন স্মৃতির তালিকায় দীর্ঘদিন জায়গা করে নিতে পারে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy