আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে মার্কিন কর্মকর্তা সরাসরি কোনো পক্ষের অবস্থান না নিয়ে বিষয়টি বাংলাদেশের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।
মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চায় না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করার চলমান কার্যক্রমের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথাও তুলে ধরা হয়।
নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত ওই ব্রিফিংয়ের বিষয় ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা অংশ নেন। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। ২০২৫ সালের মে মাসে দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং পরবর্তী সময়েও এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মার্কিন বক্তব্যে অবশ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। বরং সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের সরকারের এখতিয়ারভুক্ত বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হিসেবে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে আসে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাবে—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নেয়নি বলেও মার্কিন কর্মকর্তা জানান।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এ বিষয়ে কোনো সুপারিশ বা সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি। বরং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।