Loading...

  • 22 Jun, 2026

উত্তরের চার জেলায় বন্যার শঙ্কা, পানি বাড়ছে তিস্তা-ধরলা-দুধকুমারে

উত্তরের চার জেলায় বন্যার শঙ্কা, পানি বাড়ছে তিস্তা-ধরলা-দুধকুমারে


দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত এবং ভারতের উজানাঞ্চলে অব্যাহত বর্ষণের কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এ পরিস্থিতিতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী Nusrat Jahan Jerin জানিয়েছেন, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কয়েকটি নদীতে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রংপুর অঞ্চলে নদীটির পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প Teesta Barrage–এর ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, লালমনিরহাটে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও চরাঞ্চলের আবাদি এলাকা পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পানি আরও বাড়লে আমন মৌসুমের প্রস্তুতি এবং বিদ্যমান কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। নদীর দুই তীর উপচে পানি প্রবেশ করলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাও ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি সিলেট বিভাগেও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন ধরে অব্যাহত বৃষ্টিপাতে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ে অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

সিলেট অঞ্চলের আবহাওয়াবিদ Rudra Talukdar জানিয়েছেন, ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের মেঘালয়সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোর পানির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, বর্তমানে সিলেটের নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে উজানে অতিবৃষ্টি হলে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী Dipak Ranjan Das বলেন, ভারতের মেঘালয় পার্বত্য অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে অতিবৃষ্টি হলে সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy