পার্বত্য জেলা Rangamati-তে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের নয় বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৭ সালের ১৩ জুন টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের ফলে সংঘটিত ওই দুর্যোগে সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও পাহাড় ধসের ঝুঁকি কমেনি; বরং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীর সংখ্যা বেড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই দুর্যোগে রাঙ্গামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ১১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৩৩ জন শিশু, ৩২ জন নারী এবং ৪৮ জন পুরুষ ছিলেন। এছাড়া শহরের মানিকছড়ি এলাকায় সড়ক থেকে মাটি অপসারণের সময় দ্বিতীয় দফা পাহাড় ধসে দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচ সেনা সদস্য নিহত হন।
এই ভয়াবহ দুর্যোগ শুধু প্রাণহানিই ঘটায়নি, জেলার অবকাঠামোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনে। রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি-বান্দরবান এবং রাঙ্গামাটি-কাপ্তাই সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সড়কের ১৪৫টি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয় এবং বৈদ্যুতিক গ্রিড লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরজুড়ে কয়েকদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। পানি সংকটেও ভুগতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালের পাহাড় ধস ছিল রাঙ্গামাটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলোর একটি। ওই ঘটনার প্রভাবে জেলার বহু পাহাড় ও ঢালু ভূমির গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে, যার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতেও পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালে নানিয়ারচরে এবং ২০১৯ সালে কাপ্তাইয়ে পৃথক দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এতে বোঝা যায় যে পাহাড় ধসের ঝুঁকি এখনও বহাল রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার ১০টি উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় প্রায় ১০০টি স্থান পাহাড় ধসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এর মধ্যে শুধু রাঙ্গামাটি শহরেই রয়েছে ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। বর্তমানে ২০ হাজারের বেশি মানুষ পাহাড়ের পাদদেশে বা ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাস করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই ঝুঁকি জেনেও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। পুনর্বাসনের সুযোগ পেলে তারা নিরাপদ স্থানে যেতে আগ্রহী।
Shushashoner Jonno Nagorik (SUJAN) রাঙ্গামাটির সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ার মনে করেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি কমছে না।
এ বছরও বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে প্রশাসন বিভিন্ন সতর্কতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাইনবোর্ড স্থাপন, মাইকিং এবং বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
Nazma Ashrafi জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ ভূমি ব্যবস্থাপনার কারণে স্থায়ী পুনর্বাসন একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে প্রাণহানি এড়ানোই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ের ঢালু এলাকায় অবৈধ ও অনিরাপদ বসতি নির্মাণ বন্ধ করা এবং কার্যকর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
ট্যাগ:
রাঙ্গামাটি, পাহাড় ধস, ২০১৭ পাহাড় ধস, পার্বত্য চট্টগ্রাম, বর্ষাকাল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূমিধস, কাপ্তাই, কাউখালী, নানিয়ারচর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ, পরিবেশ ও জলবায়ু।