Loading...

  • 21 Jun, 2026

কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ অর্ধশতাধিক শ্রমিক, হাসপাতালে ভর্তি

কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ অর্ধশতাধিক শ্রমিক, হাসপাতালে ভর্তি

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার একটি পোশাক কারখানায় পানি পান করার পর অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ড্রেসম্যান লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শ্রমিক ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে যোগ দেওয়ার পর কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করেন শ্রমিকরা। কিছু সময়ের মধ্যেই কয়েকজন শ্রমিকের মধ্যে বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে একই ধরনের সমস্যায় আরও অনেক শ্রমিক আক্রান্ত হলে পুরো কারখানাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকলে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তাদের মধ্যে অনেককে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হয়। এছাড়া কয়েকজনকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

অসুস্থ শ্রমিকদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, কারখানার পানিতে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ ছিল। পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। তাদের দাবি, শুরুতে কয়েকজন অসুস্থ হলেও পরে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ফলে সহকর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ পানির মান নিয়ে কোনো সমস্যা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। কারখানার এজিএম (প্রশাসন) আতিকুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। তার ধারণা, ওই সময় দূষিত হয়ে যাওয়া কোনো উৎসের পানি পান করার কারণে শ্রমিকরা পরে অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আক্রান্ত শ্রমিকদের অবস্থা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানির নমুনা পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিতে পারে বলে জানা গেছে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy